
বাংলাদেশে ইসলামের শেকড় এসেছে মদীনা তথা আরব থেকে আগত সুফি-দরবেশদের মাধ্যমে। তারা এখানে এনেছেন শান্তি, আধ্যাত্মিকতা, চরিত্রগঠন—
রাজনীতি বা ক্ষমতার লড়াই নয়।
ঠিক এই জায়গাটিই আজ দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।কারণ সুফিরা রাজনীতি করেনি—
আর রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত ভেজাল মওদূদীবাদ সুযোগ পেয়ে এই দেশের আদি ইসলামকে চ্যালেঞ্জ করে বসেছে।আজ বাংলাদেশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে—
রাষ্ট্রীয় মদদে ধীরে ধীরে সুফিদের আনা মদীনার ইসলামকে মুছে, মতবাদের ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি চলছে।দায়টা কার?—সুফিবাদী নেতৃত্বের চরম ব্যর্থতা
বাস্তবতা নিষ্ঠুর:
সুন্নীরা এদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দুর্বল।
যে নেতৃত্ব আছে—তা বিভক্ত, অপরিকল্পিত, অকার্যকর। ১৯৯০ সালে ইসলামী ফ্রন্ট একটুখানি আশা জাগালেও মাত্র এক দশকেই দল দুই টুকরো।এরপর যত তরিকতভিত্তিক সংগঠন হয়েছে— সবই বিচ্ছিন্ন, দুর্বল, এবং নিজেদের গণ্ডির ভেতর বন্দী।
ফলাফল: বিশাল সুফিবাদী জনগোষ্ঠীও নেতৃত্বহীন।খানকা–দরবার: আমল আছে, দায়িত্ব নেই:
আজ বহু খানকা–দরবারে দৃশ্যটা এমন—
মুস্তাহাব আমলে সীমাবদ্ধ।
গদী রক্ষা বড় কাজ।
দল–মত–রাষ্ট্র—কিছুই ভাবার সময় নেই।
দেশের ভবিষ্যৎ, ইসলামের ভবিষ্যৎ—শূন্য আলোচ্য।
যেন কুরআনের সেই বর্ণনা—“তারা গাফেল হয়ে পড়ে থাকে।”সুন্নী জোটও আশার আলো দেখাতে পারছে না
সম্প্রতি তিনটি ছোট সুন্নী রাজনৈতিক দল “সুন্নী জোট” নামে মাঠে নেমেছে। কিন্তু তাদের কাজ দেখে মনে হয়— জন্মের আগেই মৃত্যুর প্রস্তুতি!
▪ সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই
▪ বুদ্ধিবৃত্তিক জবাব নেই
▪ কার্যকর রোডম্যাপ নেইএভাবে চললে-
এই জোটও ইতিহাসের আরেকটি ব্যর্থ নাম হয়ে যাবে।ভয়ংকর ভবিষ্যৎ সামনে:
সুফিবাদ শুধু বইয়ে থাকবে। যদি এখনও সুন্নী নেতৃত্ব জাগ্রত না হয়—
খুব দ্রুত—
মদীনার ইসলাম সমাজ থেকে হারাবে।
দাওয়াতি শক্তি শূন্য হয়ে যাবে।
তরুণরা মমওদূদী মতবাদসহ বিভিন্ন মতবাদের হাতে চলে যাবে এবং রাষ্ট্রে সুন্নী পরিচয় থাকবে না।এটা আবেগ নয়—একেবারে বাস্তব সম্ভাবনা।
খানকার পীরদের উদ্দেশে কঠিন প্রশ্ন
আপনি কি শুধু গদী রক্ষার জন্যই পীর?
রাষ্ট্র রক্ষায় আপনার ভূমিকা কোথায়?
সুন্নী সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী নেতৃত্বহীন কেন?
তরুণদের জন্য কোন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন?
মদীনার ইসলাম রক্ষায় আপনার পরিকল্পনা কোথায়?কুরআন বলে— “তোমরা সবাই নেতা—আর সবাই দায়বদ্ধ।”
কিন্তু আপনারা কি সেই দায়িত্ব পালন করছেন?বাংলাদেশ আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে— আমরা যদি এখনই জাগ্রত না হই, তাহলে মদীনার ইসলাম ইতিহাস হয়ে যাবে,আর এই দেশের ইসলাম হবে মওদূদী মতবাদের হাতে বন্দী।
সময় খুব বেশি নেই। যারা উঠে দাঁড়াবে—তারাই বাঁচবে। যারা ঘুমাবে—তারা শেষ হয়ে যাবে।
জামাল রাব্বানী
শিক্ষক,কলামিস্ট